জুমলা শিখে কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং করা যায়-জাকারিয়া চৌধুরী
ফ্রিল্যান্সিং কি এবং ফ্রিল্যান্সার হবার পদ্ধতি
বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে তরুণদের কাছে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের একটি হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। যদিও আমাদের দেশে এখনও এ বিষয়টি নতুন, কিন্তু এরই মধ্যে অনেকে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্যকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। পড়ালেখা শেষে বা পড়ালেখার সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সিং এ গড়ে নিতে পারেন আপনার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের একটা বিশাল বাজার। উন্নত দেশগুলো কাজের মূল্য কমানোর জন্য আউটসোর্সিং করে থাকে। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত এবং পাকিস্তান সেই সুযোগটিকে খুবই ভালভাবে কাজে লাগিয়েছে। আমরাও যদি ফ্রিল্যান্সিং এর বিশাল বাজারের সামান্য অংশ কাজে লাগাতে পারি তাহলে এটি হতে পারে আমাদের অর্থনীতি মজবুত করার শক্ত হাতিয়ার।
গতানুগতিক চাকুরীর বাইরে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার স্বাধীনতা হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং। ইন্টারনেটের কল্যানে এখন আপনি খুব সহজেই একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন। এখানে একদিকে যেরকম রয়েছে যখন ইচ্ছা তখন কাজ করার স্বাধীনতা, তেমনি রয়েছে বিভিন্নধরনের কাজ বাছাই করার স্বাধীনতা। আয়ের দিক থেকেও অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং
এ রয়েছে অভাবনীয় সম্ভাবনা। এখানে প্রতি মূহুর্তে নতুন নতুন কাজ আসছে। প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েবসাইট, গেম, 3D এনিমেশন, প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সফ্টওয়্যার বাগ টেস্টিং, ডাটা এন্ট্রি – এর যেকোন এক বা একাধিক ক্ষেত্রে আপনি সফলভাবে নিজেকে একজন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে তৈরি করে নিতে পারেন। তবে প্রথমদিকে আপনাকে একটু ধ্যর্য এবং কয়েকটি বিষয় মাথায় রেখে নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। এই প্রতিবেদনটি তাই এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে আপনি একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে নিজেকে সফলভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
ইন্টারনেটে অনেকগুলো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা ফ্রিল্যান্সিং সার্ভিস দেয় যাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। এগুলো থেকে যেকোন একটিতে রেজিস্ট্রিশনের
মাধ্যমে আপনি শুরু করতে পারেন। এসব ওয়েবসাইটে যারা কাজ জমা দেয় তাদেরকে বলা হয় Buyer বা Client এবং যারা এই কাজগুলো সম্পন্ন করে তাদেরকে বলা হয় Provider বা Coder. একটি কাজের জন্য অসংখ্য কোডাররা Bid বা আবেদন করে এবং ওই কাজটি কত টাকায় সম্পন্ন করতে পারবে তা উল্লেখ করে। এদের মধ্য থেকে ক্লায়েন্ট যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচন করতে পারে। সাধারণত পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, টাকার পরিমাণ এবং বিড করার সময় কোডারের মন্তব্য কোডার নির্বাচন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কোডার নির্বাচন করার পর ক্লায়েন্ট কাজের সম্পূর্ণ টাকা ওই সাইটগুলোতে জমা করে দেয়। এর মাধ্যমে কাজ শেষ হবার পর সাথে সাথে টাকা পাবার নিশ্চয়তা থাকে। পুরো সার্ভিসের জন্য কোডারকে কাজের একটা নির্দিষ্ট অংশ ওই সাইটকে ফি বা কমিশন হিসেবে দিতে হয়। এই পরিমাণ ওয়েবসাইট এবং সার্ভিসভেদে ভিন্ন ভিন্ন (১০% থেকে ১৫%)। কয়েকটি জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট হচ্ছে:
www.RentACoder.com
রেন্ট-এ-কোডার এ প্রায় দুই লক্ষ কোডার রেজিস্ট্রেশন করেছে। এই সাইটে প্রতিদিনই প্রায় ২৫০০ এর উপর কাজ পাওয়া যায়। সাইটের সার্ভিস চার্জ বা কমিশন হচ্ছে প্রতিটি কাজের মোট টাকার ১৫% যা কাজ সম্পন্ন হবার পর কোডারকে পরিশোধ করতে হয়। এই প্রতিবেদনটি মূলত রেন্ট-এ-কোডার সাইটকে ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। তবে মূল ধারনা প্রতিটি সাইটের ক্ষেত্রেই প্রায় একই।
www.GetAFreelancer.com
এই সাইটে মোট কোডার বা প্রোভাইডারের সংখ্যা হচ্ছে প্রায় সাত লক্ষ। এই সাইটেও প্রায় ২৫০০ এর উপর কাজ প্রতিদিন পাওয়া যায়। সাইটির সার্ভিস চার্জ হচ্ছে প্রতিটি কাজের মোট টাকার ১০%। তবে গোল্ড মেম্বারদের জন্য কোন সার্ভিস চার্জ নেই। গোল্ড মেম্বার হতে প্রতি মাসে আপনাকে মাত্র ১২ ডলার পরিশোধ করতে হবে। নতুন ইউজারদের জন্য এই সাইটে ট্রায়াল প্রোজেক্ট নামে একটি বিশেষ ধরনের কাজ পাওয়া যায় যাতে শুধুমাত্র নতুন কোডারাই বিড করতে পারবে। ফলে প্রথম কাজ পেতে আপনাকে খুব বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না।
www.Joomlancers.com
এই সাইটে শুধুমাত্র
Joomla এর কাজ পাওয়া যায়। Joomla হচ্ছে একটি ওপেনসোর্স কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। যারা Joomla তে পারদর্শী তারা এই সাইটে বিড করে দেখতে পারেন। এখানে প্রায় ৫৫০০ ফ্রিল্যান্সার
রেজিস্ট্রেশন করেছে আর প্রতিদিন প্রায় ১৫০ টি কাজ পাওয়া যায়। এই সাইটে কমিশন হিসেবে প্রতিটি কাজের ১০% টাকা কোডারকে পরিশোধ করতে হবে। এই সাইটেও আপনি গোল্ড মেম্বার হতে পারবেন। গোল্ড মেম্বার হতে হলে আপনাকে প্রতি মাসে ৫০ ডলার প্রদান করতে হবে।
www.oDesk.com
এক সাইটের ফিচার উপরে উল্লেখিত সাইটগুলো থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে প্রোভাইডারকে ঘন্টা হিসেবে কাজের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়। ক্লায়েন্ট আপনাকে সম্পূর্ণ প্রজেক্টের জন্য বা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস এর জন্য) নিয়োগ করতে পারে। রেজিষ্ট্রেশন করার সময় প্রতি ঘন্টায় আপনার কাজের মূল্য উল্লেখ করে দিতে হবে। কাজ শেষে আপনি যত ঘন্টা কাজ করেছেন ঠিক ততটুকু পরিমাণ টাকা ক্লায়েন্ট আপনাকে প্রদান করবে। কাজ করার মূহুর্তে আপনার ব্যয়কৃত সময় নির্ধারণ করার জন্য আপনাকে একটি সফ্টওয়্যার চালু রাখতে হবে, যা একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার ডেস্কটপের স্ক্রিসশট এবং অন্যান্য তথ্য ক্লায়েন্টের কাছে পাঠাবে। ফলে ওই সময় আপনি কাজ করছেন কিনা ক্লায়েন্ট সহজেই নির্ধারণ করতে পারবে। তবে অন্য সাইটগুলোর মত এখানেও অনেক কাজ পাওয়া যায় যেখানে সম্পূর্ণ প্রজেক্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়। এই সাইটে প্রতি কাজের জন্য ১০% টাকা কমিশন হিসেবে প্রদান করতে হয়। যেহেতু বেশিরভাগ কাজ ঘন্টা হিসেবে প্রদান করা হয় তাই অন্য সাইটগুলোর তুলনায় এই সাইট থেকে অনেক বেশি পরিমাণে আয় করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে জুমলা হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপারদের মধ্যে একটি আলোচিত বিষয়। এটি দিয়ে একদিকে যেমন খুব সহজেই ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়, অন্য দিকে জুমলা হতে পারে ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের প্রধান উৎস। প্রায় সকল ফ্রিল্যান্সিং সাইটেই জুমলার কাজ পাওয়া যায়। তবে শুধুমাত্র জুমলা ডেভেলপারদের জন্য সম্পূর্ণ একটি ফ্রিল্যান্সিং পোর্টাল হচ্ছে জুমল্যান্সার্স। এই পর্বে জুমল্যান্সার্স সাইটের বিভিন্ন ফিচার নিয়ে আলোচনা করা হল।
জুমল্যান্সার্স সাইট পরিচিতি:
জুমলা দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করে যারা অনলাইনে আয় করতে আগ্রহী, তাদের জন্য চমৎকার একটি ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সাইট হচ্ছে – জুমল্যান্সার্স।
সাইটটির ঠিকানা হচ্ছে – www.joomlancers.com । প্রতিদিন সাইটটিতে প্রায় ১২৫ থেকে ১৫০ টি প্রজেক্ট পাওয়া যায়। সাইটে এ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার বায়ার বা ক্লায়েন্ট এবং প্রায় ৭ হাজার জুমলা ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপার রেজিষ্ট্রেশন করেছে। এই সাইটে কমিশন হিসেবে প্রতিটি প্রজেক্টের ২০% অর্থ কোডারকে পরিশোধ করতে হয়। সাইটের গোল্ড মেম্বারদেরকে কোন ফি পরিশোধ করতে হয় না। একজন সাধারণ ব্যবহারকারী মাসে ১৫ টি বিড করতে পারবে, অন্যদিকে একজন গোল্ড মেম্বার মাসে ১৫০ টি বিড করতে পারে। গোল্ড মেম্বার হতে হলে প্রতি মাসে ৩০ ডলার করে পরিশোধ করতে হয়। তবে ৯৫ ডলার দিয়ে এক বছরের জন্য গোল্ড মেম্বার হওয়া যায়। সাইটিতে রেজিষ্ট্রেশন করার জন্য কোন ফি দিতে হয় না, উপরন্তু রেজিষ্ট্রেশন করার পর প্রত্যেক ফ্রিল্যান্সারকে ২ ডলার বোনাস প্রদান করা হয়।
জুমল্যান্সার্স যেভাবে কাজ করে:
জুমল্যান্সার্স সাইটটি অন্যান্য সাধারণ ফ্রিল্যান্সিং সাইটের মতই কাজ করে –
১) প্রথমে বায়ার/ক্লায়েন্ট একটি নতুন প্রজেক্ট পোষ্ট করে।
২) ফ্রিল্যান্সারা ওই প্রজেক্টে বিড বা আবেদন করে।
৩) তাদের মধ্য থেকে বায়ার একজন ফ্রিল্যান্সারকে নির্বাচিত করে।
৪) এরপর বায়ার সাইটির Escrow একাউন্টে প্রজেক্টের সম্পূর্ণ টাকা জমা রাখে, যা কাজ সম্পন্ন হবার পর ফ্রিল্যান্সারকে টাকা পাবার নিশ্চয়তা প্রদান করে।
৫) ফ্রিল্যান্সার তার কাজ শুরু করে এবং সম্পন্ন হবার পর বায়ারের কাছে পাঠিয়ে দেয়।
৬) প্রজেক্ট সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে বায়ার কাজটি গ্রহণ করে এবং পরিশেষে Escrow থেকে টাকা ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে চলে আসে।
প্রজেক্টের প্রকারভেদ:
সাইটিতে Joomla ছাড়াও Drupal, osCommerce, WordPress এর অল্প সংখ্যক কাজ পাওয়া যায়। সাইটের প্রথম পৃষ্ঠায় সর্বশেষ প্রজেক্টগুলো প্রদর্শন করা হয়। একটি প্রজেক্টে বায়ার তার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য যোগ করতে পারে। বৈশিষ্ট্যগুলো
হচ্ছে -
·
Featured Project: এই ধরনের প্রজেক্টে একজন ফ্রিল্যান্সার তার ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইমেইল ঠিকানা, ইন্সন্ট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার আইডি, ফোন নাম্বার ইত্যাদি বায়ারকে প্রদান করতে পারে। ফলে বায়ার প্রয়োজনে ফ্রিল্যান্সারদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবে।
·
Gold Member Project: শুধুমাত্র গোল্ড মেম্বাররা এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করতে পারে।
·
Sponsored Project: এই ধরনের প্রজেক্টে বায়ার নিজের ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রদান করতে পারে।
·
Hide Bidding Project: এই ধরনের প্রজেক্টে একজন ফ্রিল্যান্সারের বিডের মূল্য অন্যরা দেখতে পায় না।
·
Nonpublic Project: এই ধরনের প্রজেক্টগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের স্পাইডার থেকে লুকিয়ে রাখা হয় এবং শুধুমাত্র লগইন করার পর প্রথম পৃষ্ঠায় দেখা যায়।
·
Private Project: এই ধরনের প্রজেক্টে কেবলমাত্র আমন্ত্রিত ফ্রিল্যান্সারাই বিড করতে পারে।
·
Location Project: বায়ারের ঠিক করে দেয়া দেশের ফ্রিল্যান্সাররাই এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করতে পারে।
·
Urgent Project: এই ধরনের প্রজেক্টে বিড করার সময়সীমা হচ্ছে ৩ দিন।
একটি প্রজেক্টে বিড করার পদ্ধতি:
এই সাইটে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বিড করতে হয়। অর্থাৎ একজন ফ্রিল্যান্সারের বিডে উল্লেখিত মূল্য, সময় এবং মন্তব্য যে কেউ দেখতে পায়। তবে বায়ার ইচ্ছে করলে তথ্যগুলো গোপন রাখতে পারে। বিড উন্মুক্ত থাকলেও PM বা প্রাইভেট ম্যাসেজ অপশনের মাধ্যমে বায়ারের সাথে একান্তভাবে যোগাযোগ করা যায়। বিড করার জন্য প্রথমে সাইটে রেজিষ্ট্রেশন এবং লগইন করে নিতে হবে। একটি প্রজেক্ট পৃষ্ঠার নিচের অংশে বিড করার ফরম পাওয়া যায় যাতে আপনার বিডের মূল্য, প্রজেক্ট সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাব্য সময়, নিজের সম্পর্কে বর্ণনা, বায়ারের সাথে একান্তভাবে যোগাযোগ করার জন্য PM ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।
অর্থ উত্তোলনের উপায়সমূহ:
জুমল্যান্সার্স সাইট থেকে তিনটি পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলন করা যায়। প্রথম পদ্ধতি হচ্ছে Paypal
– যা আমাদের দেশে সাপোর্ট করে না। দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে
MoneyBookers – এটি দিয়ে অর্থ উত্তোলন করতে জুমল্যান্সার্স সাইটকে ১ ডলার চার্জ দিতে হয়। পরবর্তীতে
www.MoneyBookers.com সাইট থেকে আরেকটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি দিয়ে আপনার মাস্টার্ড কার্ড বা ব্যাংকে টাকা স্থানান্তর করতে পারবেন। তৃতীয় পদ্ধতি হচ্ছে Wire
Transfer – যা দিয়ে সরাসরি আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। এর জন্য খরচ পড়বে ৩৫ ডলার।
পরিশেষে:
জুমলা দিয়ে কোন রকম প্রোগ্রামিং ছাড়াই ওয়েবসাইট তৈরি করা সম্ভব হলেও নতুন কোন মডিউল বা ফিচার তৈরি করতে অবশ্যই আপনাকে প্রোগ্রামিং জানতে হবে। জুমল্যান্সার্স
সাইটে জুমলা সেটাপ করা থেকে শুরু করে, টেম্পলেট ডিজাইন করা, মডিউল/প্লাগইনস তৈরি করা, কোড পরিবর্তন করা, অন্য একটি ওয়েবসাইটকে ক্লোন করা, জুমলার কনফিগারেশন পরিবর্তন করা ইত্যাদি কাজ পাওয়া যায়। অর্থাৎ জুমলার প্রোগ্রামার, ডিজাইনার, ওয়েবমাস্টার – সবার জন্যই জুমল্যান্সার্স হতে পারে আদর্শ অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস।
-পরিচালক,ওয়েবক্রাফট বাংলাদেশ
************
ফ্রিল্যান্সিং বা কর্মসংস্থানে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং
মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাধীনভাবে কাজের মাধ্যমে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে নিজের কাজের দক্ষতা দিয়ে জড়িত হওয়া যায় ফিল্যান্স আউটসোর্সিংয়ের বিশাল বাজারে। অনলাইনে তথ্য প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রায় সকল ধরনের কাজ করা যায়। আপনি এ সংক্রান্ত যে কাজে পারদর্শী তা দিয়েই ঘরে বসে আয়
করতে পারেন। এজন্য আপনাকে যে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে তা কিন্তু নয়। কোন একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে আপনি বিশেষ পারদর্শী না হলেও অনলাইনে ডাটা এন্ট্রির মত কাজগুলো সহজেই করতে পারবেন। ফলে যে কেউ এই ধরনের কাজ করে ঘরে বসেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারেন। তবে ইন্টারনেট ভিত্তিক অনলাইনে কাজ করতে হলে, সামান্য হলেও আইসিটি জ্ঞান থাকা আবশ্যক। আইসিটি জ্ঞান সম্পন্ন যুব সমাজের কাছে বর্তমানে অতি জনপ্রিয় একটি নাম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং
বা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং। কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি ছাড়া পারিশ্রমিকের বিনিময়ে স্বতন্ত্রভাবে পূর্বনির্ধারিত কোন কাজ করাকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয়। আর ফ্রিল্যান্সার
হচ্ছেন ঐ ব্যক্তি যিনি ফ্রিল্যান্সিং করেন। একজন ফ্রিল্যান্সারের যেরকম রয়েছে কাজের ধরণ নির্ধারণের স্বাধীনতা, তেমনি রয়েছে যখন ইচ্ছা(২৪/৭) তখন কাজ করার স্বাধীনতা। গতানুগতিক ৯টা-৫টা অফিস সময়ের মধ্যে ফ্রিল্যান্সারের কাজ স্বীমাবদ্ধ নয়। ইন্টারনেটের কল্যাণে ফ্রিল্যান্সিং এখন একটি নির্দিষ্ট স্থানের সাথেও সম্পর্কযুক্ত নয়। মোট কথা স্থান, কাল পাত্র বিবেচনায় না এনে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পূর্বনির্ধারিত কোন কাজ সম্পাদনের জন্য অঙ্গীকার বদ্ধ হওয়া।
এখন কথা হচ্ছে আউটসোর্সিং কী? আউটসোর্সিং হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানের
কাজ নিজেরা না করে তৃতীয় কোন প্রতিষ্ঠান/ব্যক্তির মাধ্যমে করিয়ে নেয়া। আউটসোর্সিং কেন করা হয়? আউটসোর্সিং এর সিদ্ধান্ত সাধারণত নেয়া হয় উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য। তবে কখনো কখনো পর্যাপ্ত সময়, শ্রম অথবা প্রযুক্তির অভাবেও আউটসোর্সিং করা হয়। একটি প্রতিষ্ঠানের কাজ নিজ দেশে সম্পন্ন না করে ভিন্ন কোন দেশ থেকে করিয়ে আনাকে বলা হয় অফশোর আউটসোর্সিং। প্রধানত ইউরোপ এবং আমেরিকার ধনী দেশগুলো অফশোর আউটসোর্সিং করে থাকে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে পণ্যের গুণগত মান ঠিক রেখে কম পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কাজটি সম্পন্ন করা। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি
নির্ভর কাজগুলো অফশোর আউটসোর্সিং এর মাধ্যমেই বেশি করা হয়। যেসকল দেশ এই ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রাজিল, ইউক্রেইন, আর্জেন্টিনা, চীন, পানামা, ফিলিপিনস, ভারত, রাশিয়া, পাকিস্থান, রোমানিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, নেপাল, মিশরসহ আরো অনেক দেশ। ইন্টারনেট নির্ভর আইসিটি সংশ্লিষ্ট আউটসোর্সিং ভিত্তিক কাজকেই আমরা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং বলতে পারি।
ইন্টারনেট সংযোগসহ একটি কম্পিউটার থাকলেই আপনি যেকোন জায়গাতে বসে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং এর কাজগুলো করতে পারেন। তা হতে পারে প্রোগ্রামিং, ওয়েবসাইট তৈরি, গ্রাফিক্স ডিজাইন, মাল্টিমিডিয়া
থেকে শুরু করে ডাটা এন্ট্রি, ডাটা প্রসেসিং, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, টেকনিকাল সাপোর্ট অথবা কোন ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লেখা। তবে কাজের ধরণ ও কাজ পাবার জন্য ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং সম্পর্কে সাম্যক পূর্ব ধারনা থাকা প্রয়োজন। ইন্টারনেটে অনেকগুলো জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে যারা আউটসোর্সিং এর সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। এই সকল সাইটকে বলা হয় ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস। সকল মার্কেটপ্লেস এর ফিচার/সুবিধা/অসুবিধা/সীমাবদ্ধতা এক ও অভিন্ন নয়। কয়েকটি জনপ্রিয় মার্কেটপ্লেস
হচ্ছে- ওডেস্ক ডট কম (www.odesk.com), ফ্রিল্যান্সার
ডট কম (www.freelancer.com), ভিওয়ার্কার ডট কম (www.vworker.com), ইল্যান্স ডট কম (www.elance.com), গেট-এ-কোডার ডট কম (www.getacoder.com), স্ক্রিপ্টল্যান্স
ডট কম (www.scriptlance.com), থিম ফরেস্ট ডট নেট (www.themeforest.net), গ্রাফিক রিভার ডট নেট (www.graphicriver.net) এবং একটিভ ডেন ডট নেট (www.activeden.net)। ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস
সাইটে দুই ধরনের ব্যবহারকারী থাকে। বায়ার বা ক্লায়েন্ট এবং ফ্রিল্যান্সার, প্রভাইডার, সেলার অথবা কোডার। এসব ওয়েবসাইটে যারা কাজ জমা দেয় তাদেরকে বলা হয় বায়ার বা ক্লায়েন্ট এবং যারা এই কাজগুলো সম্পন্ন করেন তাদেরকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সার, প্রভাইডার, সেলার অথবা কোন কোন ক্ষেত্রে কোডার। একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য একাধিক ফ্রিল্যান্সার আবেদন করতে পারেন, যাকে বলা হয় বিড (Bid) করা। বিড করার সময় কাজের ধরণ বুঝে ফ্রিল্যান্সাররা কাজটি কত টাকায় সম্পন্ন করতে পারবেন তা নিজ নিজ সামর্থ অনুযায়ী উল্লেখ করে থাকেন। এদের মধ্য থেকে ক্লায়েন্ট যাকে ইচ্ছা তাকে নির্বাচন করেন কাজটি করার জন্য। সাধারণত পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, বিডে উল্লেখ করা টাকার পরিমাণ এবং বিড করার সময় ফ্রিল্যান্সারের মন্তব্যের উপর ভিত্তি করে ক্লায়েন্ট একজন ফ্রিল্যান্সারকে নির্বাচন করে থাকেন।
ফ্রিল্যান্স মার্কেটপ্লেস সাইটে কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা ভালভাবে না জানার কারণে অনেকে সফলভাবে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারেন না। এরকম কয়েকটি বিষয় হলো- প্রথমত, রেটিং (Rating) – একটি কাজ সম্পন্ন হবার পর ক্লায়েন্ট কাজের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে প্রোভাইডারকে ১ থেকে ১০ এর মধ্যে রেটিং করে থাকেন। এখানে সর্বোত্তকৃষ্ট রেটিং হচ্ছে ১০ এবং সর্বনিম্ন রেটিং হচ্ছে ১। নতুন কাজ পাবার ক্ষেত্রে এই রেটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই সবসময় ১০ রেটিং পাওয়ার জন্য প্রজেক্টের রিকোয়ারমেন্ট পরিপূর্ণভাবে এবং দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করা উচিত। দ্বিতীয়ত, রেংকিং (Ranking) – একটি ফ্রিল্যান্সিং সাইটে রেজিষ্ট্রেশনকৃত সকল প্রোভাইডারের মধ্যে একজন নির্দিষ্ট প্রোভাইডারের অবস্থান কত তা জানা যায় রেংকিং এর মাধ্যমে। সাধারণত একজন প্রোভাইডারের গড় রেটিং এবং সে কত বেশি ডলারের কাজ করেছে তার উপর ভিত্তি করে রেংকিং নির্ধারণ করা হয়। রেটিং এর মত রেংকিংও নতুন কাজ পাবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যার রেংকিং যত সামনের দিকে তার কাজ পাবার সম্ভাবনা অন্যদের চাইতে তত বেশি। তৃতীয়ত, ডেডলাইন (Deadline) – প্রত্যেক প্রজেক্ট/কাজ শেষ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ডেডলাইন দেয়া হয়ে থাকে। এই সময়ের পূর্বে অবশ্যই কাজ শেষ করতে হয়। কোন প্রোভাইডার যদি ডেডলাইনের পূর্বে কাজ শেষ করতে না পারে তাহলে বায়ার ইচ্ছে করলে তাকে কোন পরিশ্রমিক না দিয়ে সম্পন্ন কাজটি নিয়ে যেতে পারে। একইসাথে ক্লায়েন্ট সেই প্রোভাইডারকে একটি নিম্নমানের রেটিং দিয়ে দিতে পারেন। তাই কোন প্রজেক্টের ডেডলাইন সময় প্রয়োজনের তুলনায় কম মনে হলে কাজ শুরুর পূর্বেই বায়ারকে অনুরোধ করে বাড়িয়ে নেয়া উচিত।
ফ্রিল্যান্সার নির্বাচন করার পর বায়ার বা ক্লায়েন্ট প্রজেক্টের সম্পূর্ণ টাকা ওই সাইটগুলোতে এস্ক্রো (এস্ক্রো স্বাধীন ও বিশ্বস্ত তৃতীয় পক্ষ/মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তহবিল সংরক্ষণ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী উভয় পক্ষের শর্ত পূরণ স্বাপেক্ষে ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে তা যথাসময়ে হস্থান্তর করে থাকে) নামক একটি একাউন্টে জমা করে রাখেন, যা কাজ শেষ হবার পর সাথে সাথে ফ্রিল্যান্সারের পাওনা পরিশোধের নিশ্চয়তা প্রদান করে। ক্লায়েন্ট কর্তৃক টাকা এস্ক্রোতে জমা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর কাজটি শুরু করা যেতে পারে। কাজ শেষ হবার পর ফ্রিল্যান্সারকে সম্পূর্ণ প্রজেক্টটি ওই সাইটে/মার্কেটপ্লেসে জমা দিতে হয়। এরপর ক্লায়েন্ট ফ্রিল্যান্সারের কাজটি যাচাই করে দেখে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ক্লায়েন্ট তখন সাইটে নির্ধরিত একটি বাটনে ক্লিক করে কাজটি গ্রহণ করেন। সাথে সাথে এস্ক্রো থেকে অর্থ ওই সাইট/মার্কেটপ্লেসে ফ্রিল্যান্সারের একাউন্টে এসে জমা হয়। সম্পূর্ণ সার্ভিসের জন্য এসময় ফ্রিল্যান্সারকে কাজের বিনিময়ে পূর্বনির্ধারিত পারিশ্রমিকের একটা নির্দিষ্ট অংশ (১% থেকে ১৫% পর্যন্ত) মধ্যস্থতাকারী ওই সাইটকে ফি বা কমিশন হিসেবে দিতে হয়। এরপর মাস শেষে বা মাসের মাঝামাঝি সময়ে মধ্যস্থতাকারী সাইটটি ফ্রিল্যান্সারের আয়কৃত অর্থ বিভিন্ন পদ্ধতিতে তার কাছে প্রেরণ করে থাকেন। সাধারনত, অর্থ উত্তোলনের কাজটি চেকের মাধ্যমে, পেওনার (Payoneer) ডেবিট মাস্টারকার্ড, মানিবুকার্স (Moneybookers), ব্যাংক থেকে ব্যাংকে ওয়্যার ট্রান্সফার (Wire Transfer) এর মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। একটি প্রজেক্ট চলাকালীন সময় বায়ার এবং প্রোভাইডারের
মধ্যে কোন সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য মেডিএশন/আর্বিট্রেশন এর ব্যবস্থা রয়েছে। এই পদ্ধতিতে সাইটের যথাযথ কতৃপক্ষ উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে এবং সমাধানের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
আমার জানামতে, আমাদের দেশে কতজন ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিং কাজের সাথে জড়িত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান এখনও পর্যন্ত নেই। ইন্টারনেটে কে কোথা থেকে কাজ পাচ্ছেন তা জানাটাও দুরূহ বটে। মার্কেটপ্লেসগুলোতে অনেকে নিজেদের প্রোফাইল প্রাইভেট করে রাখেন যা শুধুমাত্র একজন ক্লায়েন্টই দেখতে পারেন, অনেকে আবার ক্লায়েন্টদের সাথে সরাসরিও কাজ করে থাকেন। ইন্টারনেটের গতি, ইন্টারনেটে আর্থিক লেনদেনের সীমাবদ্ধতা, পেপাল কিংবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের অনুপস্থিতির কারণে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং তেমন এগিয়ে যেতে পারছে না। তবে আশার কথা এই যে, ইন্টারনেটে আর্থিক লেনদেনের সীমাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে গত ৩০ মে, ২০১১ তারিখে বাংলাদেশ ব্যংক হতে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারী করা হয়েছে। কোরিয়াতে যেখানে ইন্টারনেটের গড় গতি ১০০ মেগাবাইট পার সেকেন্ড সেখানে বাংলাদেশে ইন্টারনেটের গতি এখনও কিলোবাইটে উঠানামা করে। আবার খেঁটেখুটে কাজ করার পর ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে পেমেন্ট পেতেও ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হয় ইন্টারনেটে আর্থিক লেনদেনের সীমাবদ্ধতার কারণে। সীমাবদ্ধতার মধ্যেও এদেশে ফ্রিল্যান্সাররা আজ আউটসোর্সিংয়ের জগতে নিজেদের নাম উজ্জ্বল করছে।
বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং হতে পারে অর্থনৈতিক মুক্তির উপায়। দেশের দক্ষ ও বেকার জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থানের
সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জনশক্তিতে পরিণত করতে এটি হতে পারে একটি সহায়ক নিয়ামক। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে দেশে পেপাল সার্ভিস চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনকরা আবশ্যক, ইন্টারনেটের গতি বৃদ্ধিসহ আরো সহজলভ্য করতে হবে। যে সকল যুবক/যুবতি/ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সিং এ আগ্রহী তাদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, প্রাথমিক অবস্থায় অনলাইনে কাজ পাওয়াটা সহজ নয়। ধৈর্য ও পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। কারণ এখানে আপনাকে বিভিন্ন দেশের দক্ষ ফ্রিল্যান্সারদের সাথে প্রতিযোগিতা/বিড করে কাজ আনতে হবে। আত্মবিশ্বাসী, প্রত্যয়ী ও সমসাময়িক তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা সম্ভব।
[লেখকঃ প্রোগ্রামার, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ঢাকা। ই-মেইলঃ mithu_cse24@yahoo.com]
তারিখঃ ০৪/০৬/২০১১খ্রিঃ